বই পরিচিতি:
লেখক পরিচিতি:
এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী বই। বইটিতে স্থান পেয়েছে ছোটবড় মোট সাতটি গল্প। প্রতিটা গল্পে রয়েছে হতাশার বেড়াজাল ছিন্ন করে একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের জন্য পাঠককে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা যোগাবার নির্যাস। বইটির যে ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য আছে তা হলো, এর গল্পগুচ্ছ জীবনের প্রতিটা পরতে পরতে ইসলামের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠককে অবহিত করবে সাথে সাথে তাকেও ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে আসতে উৎসাহ যোগাবে। হৃদয়কে প্রশান্ত আর অনুভূতিকে সজীব করবে। মহান ধর্মের এমন অনন্য- বৈচিত্র্যপূর্ণ ইতিহাস এবং অবিকৃত সুস্থ সংস্কৃতি পাঠকের মনে ধর্ম সম্পর্কে পজেটিভ ধারণা সৃষ্টি করবে। স্রষ্টার কৃপা উপলব্ধি করে নিজের চিন্তাকে বদলে ফেলবে এবং নিজেকে গল্পের চরিত্রে থাকা সফল মানুষগুলোর মতো কল্পনা করে পাঠক পুলকিত হবেন তারপর আস্তে আস্তে নিজেকেও স্রষ্টার অনুগত ভাবতে শুরু করবেন। এভাবেই একসময় আমাদের ভাই বোনেরা ইসলামের মাঝে প্রাকটিসিং হিসেবে পপদার্পণ করবেন বলে লেখক আশাবাদী।
এছাড়াও গল্পের প্রতিটা লাইনে প্রাঞ্জল সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে শব্দের পর শব্দ গেঁথে রচনা করা হয়েছে ইসলামিক জীবন গঠন করতে পারলে সমাজে তা কেমন প্রভাব সৃষ্টি করে তার রূপকল্প এবং অসাধু মানুষের মনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা যুক্তি এবং বাস্তবতা দিয়ে সফলভাবে খণ্ডন ও সঠিক চিত্র উপস্থাপনের উপায়। এছাড়াও জীবনে চলার পথে উঠতি বয়সীদের অযাচিত কিছু ভুল এবং ভুল থেকে সফল উত্তরণের উপায় হচ্ছে গল্পগুলোর প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়।
লেখক পরিচিতি:
ডি এইচ শিশির। পুরো নাম : মোঃ
দেলোয়ার হাসান শিশির। কপোতাক্ষ নদীবিধৌত জেলা, যশোরের ছেলে।
একজন ছাত্র। বিভিন্ন পত্রিকা এবং বইয়ে গল্প, কবিতা প্রকাশিত
হলেও "উদীয়মান লেখক ফোরাম" এর সহায়তা এবং মেজর. তারেক মাহমুদ স্যারের
একান্ত পৃষ্ঠপোষকতায় এককভাবে এটাই তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। শিশির, একজন সত্যান্বেষী অলংকর্তা। শব্দের পর শব্দ গেঁথে সমসাময়িক আলোচিত বিষয়
এবং ইসলামিক ভাবধারার শিক্ষণীয় গল্প লেখা
তার প্রিয় শখ। সে মনে করে, দু'কলম লেখার মতো তাওফিক মহান আল্লাহু তা'আলার অপার
করুণা। তাই এর সদ্ব্যবহার করা তার ঈমানী দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বর্তমান
যুবসম্প্রদায়কে, বিশেষত মুসলিম যুবকদেরকে বটতলার বাজে
গল্প- উপন্যাস থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বস্থান থেকে এটা তার ছোট্ট প্রয়াস। সে চায়
তার লেখা পড়ে যদি একজনও হতাশা কাটিয়ে একটু
অনুপ্রেরণা পায়, দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তন করে, তবে সত্যিকারার্থে সেটাই হবে তার সার্থকতা।
প্রথম বই। কিন্তু শেষ বই নয়
ইনশাআল্লাহ।
বইটি কেন কিনবেন:
বইটি হয়ত পাঠককে বিদ্বান করবেনা
কিন্তু হয়ত বইয়ের কোনো গল্পে লুকায়িত
ছোট্ট একটি শিক্ষা হতে পারে পাঠকের মধ্যে সুপ্ত জ্ঞান সম্ভাবনাকে প্রতীয়মান
করার মাধ্যম। হতে পারে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার উপাধ্যায়।
লেখককের কাচা হাতের ছোঁয়ায় উঠে আসা কোনো একটি ছোট্ট সাধারণ চিত্র বা তথ্য হতে পারে
একজন জ্ঞানি গবেষকের জন্য বড় একটি থিসিস।
যা নিয়ে তাঁর গবেষণা হয়ত জাতির জন্য বড় প্রাপ্তি বয়ে আনতে পারে।
আপনি যদি একজন অমুসলিম পাঠক হন তবে
বইটি কেন পড়বেন? পড়বেন এজন্যই যে, সমাজের বিভিন্ন পদে পদে সৃষ্ট অনিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যাবলীর কত সুন্দর এবং
সময়োপযোগী নিঁখুত সমাধান মহান ধর্ম ইসলাম দিয়েছে তা এই বইয়ে বিভিন্ন গল্পের খণ্ডিত
অংশে প্রয়োজনানুসারে উপস্থাপন করা আছে। এটি হয়ত আপনাকে উদ্দীপনা যোগাবে সত্য
মিথ্যার পার্থক্য অনুধাবনে এবং পরবর্তীতে
আলোর পথের সফল অভিযাত্রী হতে।
বইটি সূচিপত্র:
কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে ৮- ১৫
যে বয়স
নিয়ন্ত্রী ১৬-
২১
বিপর্যস্ত
জীবন ২২- ২৮
পর্দানশীন আপুর সংস্পর্শে মডার্ন তরুণী ২৯ - ৪০
আহব্বান ৪১
- ৪৭
পর্দা এবং
কিছু কথা ৪৮ -
৫৭
নিয়তির
বিচার ৫৮ - ৬৪
কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে
ক্লাসের সবাই গল্পগুজব এ ব্যস্ত শুধু মাত্র একটি মেয়ে
ছাড়া। মাঝের দিকের একটা বেঞ্চে নীল হিজাব পরিহিত মেয়েটি উদাস নয়নে জানালার ফাঁক
দিয়ে চেয়ে আছে বাইরে সজনে গাছের ডালে বসে থাকা একটি টিয়াপাখির দিকে, যেটি
মাঝেমাঝে থেমে থেমে করুণ স্বরে ডেকে চলেছে ।
মেয়েটি ভাবছে যে, টিয়াপাখিটিও বোধ হয় তার মতো
বন্ধুহীন । অথবা সঙ্গী পাখিটি হয়ত তাকে ফাঁকি দিয়ে হারিয়ে গেছে দূর অজানাতে । মেয়েটি তার দুঃখ কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে। কারণ সেও একজন দুঃখী । বন্ধুহীনতার দুঃখ
যে মনে কতটা ভয়ানক প্রভাব ফেলে তা বাইরে
থেকে সাধারণ দৃষ্টিতে বোঝা যায় না।
মেয়েটির পরিচয় দেওয়ার মতো সুন্দর কথা থাকা সত্ত্বেও
সহপাঠীদের কাছে তার বড় পরিচয় হলো কালো মেয়ে ।
হ্যাঁ, মেয়েটি কৃষ্ণাঙ্গ । সুশ্রী গড়নের নম্র-ভদ্র এবং ধার্মিক
মেয়ে । গায়ের রং কাজলা হলেও গুণগ্রাহী মানুষগুলো খুব সহজেই তার ভিতর
থেকে বিচ্ছুরীত গুণের আলোকরশ্মি পরখ করতে পারেন।
বুঝতে পারেন স্রষ্টা তাকে অনন্য গুণের নিপুণতা দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন
। কিন্তু
মেয়েটির অসম্ভব মায়াভরা চোখ দুটি অন্যকথা বলে । তার নির্মল দৃষ্টি থেকে ঝরে পড়ে হাহাকার আর অবহেলার রোদন। ক্লাসের সবার এড়িয়ে
চলা ওর মনে দাগ কেঁটে যায় । মাঝে মাঝে ওর
ইচ্ছে হয় কেউই যখন চায়না যে, সে তাদের সাথে কথা বলুক,
তাদের বন্ধু হোক, তাদের সাথে এক পথে চলুক,
তখন কি হবে এই জীবন রেখে? অন্তত বাবা মা হয়ত
একটু শান্তি পাবে (!) তার অবর্তমানে ।
তাঁরা তো কম চেষ্টা করেননি তাকে একটি সৎ পাত্রে পাত্রস্থ করতে । কিন্তু অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুখায় । সব দিক থেকে অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী হওয়া
সত্ত্বেও শুধু ঐ একটা মাত্র কারণ তার জীবনটাকে অনলের দহনে ছায় করে দিতে থাকে ।
শেষবার তো পাত্রের মা মুখের উপর বলেই দিলেন যে, তিনি
এমন কালো মেয়েকে ঘরে তুলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সায়াহ্নের আঁধারে ঢাকতে চান না
। কথাটা ঘরে বসে শুনেছিলো মেয়েটি। তাই
সেদিন ওড়নায় মুখ ঢেকে এক বিকেল জুড়ে সে কেঁদেছিলো ।
সেদিন তার অব্যক্ত মন এমনকি চোখ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটা
ফোঁটা অশ্রুকণা পর্যন্ত স্রষ্টার কাছে প্রশ্ন করছিলো- কেন এই বৈষম্য তিনি সৃষ্টি
করলেন?
যার কারণে তাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে।
শুধুৃমাত্র যার কারণে তার বাবা-
মাকেও শুনতে হচ্ছে নানান কটু কথা । কেন হতে হচ্ছে অপমানিত, অপদস্থ?
মাঝামঝে বাবা মায়ের চোখের দিকে তাকালে মেয়েটির মন হু হু করে কান্নায়
ভেঙ্গে পড়তে চায়। সে প্রতিনিয়ত স্রষ্টার কাছে আক্ষেপ করে করে মুক্তি চায়। কিন্তু মুক্তির জন্য কি করবে তা ভেবে পায় না ।
নিয়তির এই অদ্ভুত খেয়াল তাকে নিত্য যন্ত্রনা দিতে থাকে ।
একই পথের পথিক হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুদের এড়িয়ে যাওয়া সহ্য
করতে না পেরে মাঝে মাঝে সে অদৃষ্টে প্রশ্ন ছুড়ে দেই, 'আমিতো নিজেই নিজেকে
সৃষ্টি করিনি। তোমাদের যেই স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন আমাকেও তিনিই সৃষ্টি করেছেন
তাহলে তোমরা কেন আমার দিকে এভাবে তাকাও? কেন ভিনগ্রহের
প্রাণীর মত এড়িয়ে যাও আমাকে? কেন তোমরা বোঝনা আমিও একজন
মানুষ? সবাই মিলে
আনন্দ-উল্লাস, হাসি আড্ডা, আর দুষ্টু-
মিষ্টি কথার ফুলঝুড়িতে আমারও দিগন্তে হাতছানিতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে । আমারও যে, সুখ-দুঃখের
কথাগুলো পরম নির্ভরতায় কারো কাঁধে ভর দিয়ে দু'ফোঁটা চোখের জল
ফেলে বলতে ইচ্ছে করে । ইচ্ছে হয় কেউ একজন
ভালোবাসার স্পর্শে চোখের জল মুছে দিয়ে আশ্বাস রেখে বলুক, 'আল্লাহর
উপর ভরসা রাখ। আমি কালো নয় বরং, কালোর মৃদু আবরণ দিয়ে সংরক্ষণ করা নিয়ন আলোর জ্যোতিরত্ন
দেখে তোমাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে চাই।' কিন্তু না স্বপ্ন তো স্বপ্নই হয়।
আচ্ছা শুধু আমার জন্যই কেন নিয়তি ভিন্ন
হাসি হাসে? সত্যিই কি আমি অপয়া?
শ্বেতাঙ্গ- সুশ্রীরা, তোমরা কি জানো না যে,
আমার মতো কালো মানুষগুলোর জন্যই তোমাদের সৌন্দর্য্যের এতো মূল্যায়ন?
যদি আমাদের মাঝে এই ব্যতিক্রমরূপ না থাকতো তবে তোমাদের সৌন্দর্য্য
হতো মূল্যহীণ। যে জন্য তোমাদের এত অহমিকা
তা তো আমাদের ত্যাগেই পূর্ণতা পেয়েছে। আমাদের..
তোমাদের ঔজ্জ্বল্যতা এনে দিয়েছে,
তা সত্বেও তোমরা আমাদের সাথে এরূপ আচরণ কেন করছো? কেন? কেন?
কেন?'
তাঁর নির্জীব প্রশ্ন গুলো বাতাসের সাথে মিশে যায় আর
নিরন্তর উত্তরের নিশ্চুপ অপেক্ষার প্রহর
গুনতে থাকে মেয়েটি ।
বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:
গ্রন্থস্বত্ব
: লেখক
: লেখক
প্রকাশকাল
: ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ০১ র্মাচ ২০১৮
: ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ০১ র্মাচ ২০১৮
: ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভাসন-১: ০১ র্মাচ ২০১৮(৬ কপি)
: প্রথম প্রেস র্ভাসন প্রক্রিয়াধীন
মুদ্রণে
: উদীয়মান লেখক ফোরাম
বাঁধাইয়ে
: ইসমাইল,নীলখেত
মূল্য
: পিডিএফ র্ভাসন ৫০ টাকা বিদেশে দুই ডলার।
: ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভার্সন ১৬০ টাকা বিদেশে চার ডলার।
: প্রেস র্ভাসন ১২০ টাকা বিদেশে তিন ডলার।
আইএসবিএন :
আবেদন প্রক্রিয়াধীন
আইএসবিএন :
আবেদন প্রক্রিয়াধীন

No comments:
Post a Comment