Friday, April 13, 2018

তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর স্বপ্নে-মো: মেসবাহুল আলম


বই পরিচিতি:


লেখকের অনেক অনবদ্য সৃষ্টির মাঝে ‘‘তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর স্বপ্নে’’ একটি চমৎকার লেখা, যেখানে ০৫টি ছোট জীবনমুখী ও বাস্তব ঘটনার সংবলিত গল্প উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পগুলিতে আপনি ও আপনার আশে-পাশের ঘটনাবলীই খুঁজে পাবেন। সমাজ ও মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতার মাঝেই জীবন বহমান। গল্পে সুন্দরভাবে উপস্থাপিত ছোট ছোট ঘটনাগুলি নিয়ে যাবে আপনাকে স্মৃতির গহ্বরে।

লেখক পরিচিতি:



মোঃ মেসবাহুল আলম, বীর একজন সৃজনশীল ও জীবনমুখী লেখক। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীর পাশাপাশি মানুষের জীবন, প্রেম-ভালোবাসা এবং নিত্যদিনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বিধায় তিনি খুব ছোট বেলা থেকেই লিখে চলেছেন। তিনি বিভিন্ন জার্নালে নিয়মিত লিখে থাকেন। এছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি এবং ফ্রান্স ভাষায় অজস্র গান ও কবিতা লিখেছেন।

লেখক নিয়মিতভাবে মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করেন। তার নিয়মিত বাস্তবমুখী ও দিক নির্দেশনামূলক লেখার অনুশীলন চলমান। আলোচ্য লেখক ৪৮ বছরের একজন সেনা কর্মকর্তা, যিনি চাকুরীর প্রায় ২৭ বছর কাল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাকুরী করেছেন। তিনি সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন, যশোর হতে ১৯৮৪ সালে এসএসসি এবং সরকারী এম এম কলেজ, যশোর হতে ১৯৮৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশের পর যোগ দেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯১ সালে স্নাতক এবং সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি হতে ২০০৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এমবিএ পাশ করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইনফ্যান্ট্রিতে যোগদান করেন। তিনি পদাতিক সকল র‌্যাংকে ইনফ্যান্ট্রির বিভিন্ন ইউনিট, স্কুল ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন হেডকোয়ার্টারে স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিবিড় অরণ্যের ক্যাম্প ও রিজিয়ন সদরে চাকুরী করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে তিনি সিয়েরালিয়ন ও আইভরিকোস্ট এ শান্তি মিশনে গমন করেন। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বিভিন্ন ইউনিট ও হেডকোয়ার্টারে চাকুরী করেছেন। তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

বইটি কেন কিনবেন:

ডিজিটাল এই যুগে মানুষের সময় খুবই কম এবং ভালো গল্পেরও খুবই সংকট। লেখকের এই বইটি আপনাকে নিয়ে যেতে পারে শৈশবের মধুর সেই উত্তাল দিনগুলিতে এবং বইটি আপনার জ্ঞানের তৃষ্ণা নিবারণ করবে। লেখকের এই মহৎ সাহিত্যকর্মই তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে অনন্য এক  উচ্চতায়।

বইটি সূচিপত্র:

দিগন্তে চক্র ৮-২৪
দ্বীপ্র ও তেলিখালী যুদ্ধ ২৫-৫১
আটলান্টিকের কোলে ৫২-৬১
ঘাসবনে সুবর্ন-মালা ৬২-১০০
সাতক্ষীরা টু তিহার ১০০-১১১

একটু পড়ে দেখুন:


দিগন্তে চক্র

প্রশ্নের দুটো সরল উত্তর প্রচলিত আছে। একটা হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর একটা ষড়যন্ত্রের ফল। ষড়যন্ত্রের হোতা মিখাইল গর্বাচভ, তিনি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআই এর এজেন্ট ছিলেন। তিনি নিজের চারপাশে যে সব লোককে জড়ো করেছিলেন, তারাও সবাই ছিলেন পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বের দালাল। এই দালাল চক্র আমেরিকা ও তার পুঁজিবাদী মিত্রদের সাথে ষড়যন্ত্র করে ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গেছে। নইলে দেশটির পতনের কোনো কারণ ছিল না। তখন পুতিনরা খুব কষ্ট পেয়েছিল এবং শপথ নিয়েছিলো অন্যভাবে, ঠিক সেই সময়ই এদেশেও বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে যায়। এমনই আলাপ করতে করতেই সংসদ ভবন পার হয়ে চার রাস্তায় মোড়েই অবস্থিত পুলিশ বক্সের কাছে গাড়ী যানজটে পড়ল। কি আর করা? এদেশে যেমনি কাকের থেকে মানুষের সংখ্যা বেশী তেমনি ঘর থেকে বের হলেই মানুষ, গাড়ী আর যানজট।
           
হঠাৎ জানালায় টোকার শব্দ। ড্যানিয়েল লিগাচভকে দেখে ছোট্ট দুটি মেয়ে ফুল ও ফুলের মালা নিয়ে এলো। ওদের মিষ্টি মায়াবী চেহারা দেখেই ড্যানিয়েল কিনে নিলো ফুল গুলো।

কেটে গেল পাঁচ মিনিট। সিগন্যাল আর ক্লিয়ার হয় না। গাড়ীতে বসেই অনেক কিছু দৃষ্টি গোচর হতে লাগলো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো চারিদিকে ভিক্ষুক। নানান আকৃতির, নানান চেহারার ভিক্ষুক। কারো হাত নেই, পা নেই, চোখ নষ্ট, মুখ নষ্ট এবং বিভিন্ন অসংগতি যুক্ত ভিক্ষুকের দল।

সন্ধ্যা কেবলই হলো। কেউ বসে বসে ভিক্ষা করছে, কেউ কেউ ধুয়া টানছে ,আবার কেউ কেউ অন্ধকারে গাছের আড়ালে গিয়ে কি যেন করছে? এদেশে অনেক শিল্প ছিলো। কামার, কুমোর, ছাতি সারাওয়ালা, ফেরিওয়ালা এবং হাজারো ছোট্ট ছোট্ট কাজের শিল্প। সাথে ছিল অল্প বিস্তরে ভিক্ষা শিল্প। আজ সেটা মহামারী আকারে ধরা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হতে থাকে ঐ বিখ্যাত শিল্পের প্রসার। এর কিছু পরে শিমন মেসবাহ এইচএসসি পাশ করে স্কলারশিপ নিয়ে নব্বই দশকে যখন মেডিক্যাল পড়তে গেল ঠিক তখন রাশিয়াতে কেবল পুঁজিবাদী আবহাওয়ার জোয়ার ধাক্কা দিয়েছে।

সেই সময়ে বাংলা দেশেও বন্যা হয়েছিল অনেক লোক মারা গেল। খাদ্য ও আশ্রয়হীন মানুষ গুলো শহরে কাজ না পেয়ে ভিক্ষা বৃত্তি শুরু করেছিলো। মানুষ গুলোর কষ্ট দেখে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ঠিক ঠাক মনে নেই তবুও যতদূর মনে পড়ে কলেজ থেকে সবাই চাঁদা তুলে বন্যা দুর্গতদের সাহায্য করেছিল। তখনই যেন বেশ ঘটা করেই ভিক্ষুকের উপস্থিতি টের পেয়েছিল শহরবাসী ও শিমন মেসবাহ ,তারপর সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে যাওয়া। মেডিক্যাল পড়তে পড়তেই ড্যানিয়েল লিগাচভের সাথে পরিচয়।


বলশোভিক বিপ্লবের দেশে লেনিন, ষ্টালিনরা অপাংক্তেয় হয়ে পড়ল গর্বাচভের দেয়া ফর্মুলা গ্লাসনত ও পেরেস্ত্রোইকার কাছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের মানুষেরা উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। তারা মুক্তির নিঃশ্বাস ফেললো। যেন বিশাল এক বাধ ভেঙ্গে গেল। সোভিয়েত সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন এমন প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। যেমনটা এর আগে কখনো ঘটেনি।তেমনটি মনে হলো শিমনেরও।

বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:

গ্রন্থস্বত্ব 
: লেখক

প্রকাশকাল            
:  ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ০১ মে ২০১৮                     
:  ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভাসন-১:  ০১ মে ২০১৮ ( ২ কপি)
   ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভাসন-১:  ০৫ মে ২০১৮ ( ৫ কপি)                       
:  প্রথম প্রেস র্ভাসন প্রক্রিয়াধীন

মুদ্রণে
:  উদীয়মান লেখক ফোরাম

বাঁধাইয়ে
:  ইসমাইল,নীলখেত

মূল্য
:  পিডিএফ র্ভাসন ৭০ টাকা বিদেশে দুই ডলার।
:  ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভার্সন ২৩০ টাকা বিদেশে চার ডলার।
:  প্রেস র্ভাসন ১৭০ টাকা বিদেশে তিন ডলার।

আইএসবিএন : 
আবেদন প্রক্রিয়াধীন

No comments:

Post a Comment