১ম ডিজিটাল ভার্সন
মূখবন্ধ:
লেখক পরিচিতি:
লেখকের প্রকাশিতব্য বইসমূহঃ
মানব জীবনটা হচ্ছে পত্রপল্লবে সুশোভিত বৃক্ষের মতো। একেকটা লিখিত গল্প একেকটা ঝরাপাতার মতো। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কম বেশি অসংখ্য গল্প আছে। একেকটা অখ্যাত মানুষের সেসব গল্প অন্য মানুষ হয়তোবা
জানে,
হয়তোবা জানে না। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন “জগতের শত শত
অসমাপ্ত কথা যত// অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল// অকালের জীবনগুলো, অখ্যাত কীর্তির ধুলা// কত ভাব, কত ভয় ভুল।“ তেমনই কিছু জীবনের গল্প নিয়ে আমার প্রথম গল্পের
বই “জীর্ণপাতা”। ১৯৯৫ সালে যখন নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকে একটু একটু লেখালেখি করি। এ বইয়ের গল্পগুলোর কিয়দংশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, আর কিছু ছিল অপ্রকাশিত
।
মানুষ দিন দিন বেশি যান্ত্রিক, বেশি ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। বড় আকারের লেখা কম সংখ্যক লোকেই পড়তে চায়। ছোট লেখা বেশি সংখ্যক লোকে পড়তে আগ্রহী হয়। সে জন্য আমি স্বল্পদৈর্ঘ্যের গল্প লেখার চেষ্টা করি। এর কিছু ছোটগল্প আর কিছু অনুগল্পের পর্যায়ে পড়ে। শুধু অনুগল্প নিয়ে ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র একটি গল্পের
বই প্রকাশে আগ্রহী। লেখক হিসেবে আমার হাত একেবারেই আনকোরা। একটি কাহিনী বা প্লটকে গল্পের ব্যাকরণে বা সাহিত্যমানে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য
কিছু নান্দনিক ও শিল্পশর্ত পূরণ করতে হয়। আমি গল্প নামে যা লেখি, সেটা আদতেই গল্প হয় কি না, কিংবা সাহিত্যের ব্যাকরণিক দিকটি ছুঁয়ে যায় কি না, সেটা জানি না। নিরন্তর মনের ভাবনা থেকে লিখি, পাঠককে ভাবানোর
উপকরণ রাখার চেষ্টা করি। আমার গল্পগুলি গল্প হোক কি না হোক, একান্ত শখের
বশেই লেখা এবং বই প্রকাশ করা। এ কয়টি গল্পের মধ্য থেকে দু একটা গল্পও যদি কোন পাঠকের ভাবায়, চিন্তার খোরাক দেয়, নূন্যতম ভাল লাগে, তবে আমার
প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে ধরে নেব।
মুহাম্মদ ফজলুল হক।
ফেনী।
মুহাম্মদ ফজলুল হক ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার আমজাদ হাট ইউনিয়ন অন্তর্গত উত্তর তারাকুচা গ্রামে আব্দুল কাদের ও করফুলের নেছার ঔরসে ১৯৮৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। সাত ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সহধর্মীনি জাকিয়া সুলতানা রুমা একটি কলেজে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক (এম.পি.ও ভূক্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন৷ উনাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, আহনাফ তাজওয়ার লাবীব, বয়স সাড়ে তিন বছর৷
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ফেনী জেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে দাখিল (এসএসসি) ও আলিম (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। ফেনী সরকারী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও ঢাকা কলেজ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রী এবং বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পল, চট্টগ্রাম থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। তাছাড়াও ইংরেজি ভাষা এবং কম্পিউটার বিষয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত ডিপ্লোমা করেন। ভবিষ্যতে তিনি উচ্চতর গবেষণা করতে আগ্রহী।
তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কলেজে ছাত্রাবাস, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ছাত্র ছাত্রীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য ২০০৩ সালে ফেনী সরকারী কলেজে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র-ঐক্যের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন লেখক। উক্ত আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার ফেনী সরকারী কলেজের উন্মুক্ত সীমানায় প্রাচীর নির্মাণ ও বৃহৎ আকারে ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে বাধ্য হন।
পেশাগত জীবনে লেখক ফেনী জেলার খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান শাহীন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক, মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, আদাবর, শ্যামলী, ঢাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক, ফেনী কলেজিয়েট স্কুল এর অধ্যক্ষ এবং বীকন মডেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চরলক্ষ্মীগঞ্জ নাজেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, কুঠিরহাট, সোনাগাজী, ফেনীতে স্নাতক পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক (এম.পি.ও ভুক্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
লেখক ফেনী শহরে রিডার্স ফোরাম নামে একটি ষ্টাডি সার্কেল পরিচালনা করে আসছেন৷
ত্রৈমাসিক হুইশেল নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন৷ তিনি আন্তর্জাতিক
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল এর ফেনী শাখার একজন সদস্য। এছাড়াও বিভিন্ন
সময়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেছেন৷ ফেনী সরকারী কলেজ এক্স স্টুডেন্টস
এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
এলামনাই এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা অর্থসম্পাদক। বই পড়া আর ঘুরে বেড়ানো লেখকের অন্যতম
শখ। দেশের অর্ধেকের বেশি জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা ভ্রমণ করেছেন তিনি।
লেখকের প্রকাশিতব্য বইসমূহঃ
১) অনুগল্পের বই "অল্প কথার গল্প"৷
২) প্রবন্ধ সংকলন "বাৎচিৎ"৷
৩) ভ্রমণ কাহিনী "তেপান্তরের চুপকথা"৷
৪) কবিতার বই "অস্ফুট আস্ফালন"৷
বইটি সূচিপত্র:
০১) ছোট্ট বান্ধবী
০২) ফনিমনসার জোসনারাত
০৩) কালো মানিক
০৪) ফ্যাসাদ
০৫) ঝরা বকুল
০৬) রাতের অতিথি
০৭) তিন বন্ধুর বিদেশ গমন
০৮) বিরহ বিধূর হিয়া
০৯) রক্তমাখা কিশোরকন্ঠ
১০) সাপের মানিক
১১) উপস্থিত বুদ্ধি
১২) এক পলক
১৩) ভয়ংকর এক রাত
১৪) দ্বিগুন বৃদ্ধি
১৫) নিশিকুটুম্ব
নিশিকুটুম্ব
বিশেষ কাজে শেষ রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন মারুফ। স্ত্রী শায়লা আর ছোট বাচ্চাকে বাসায় রেখেই তিনি বের হলেন। বৌ খুবই ভীতুর ডিম । স্বামী
বের হওয়ার পর বাচ্চাকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইলেন। এর আগে
বাসার সব রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলেন। গরম কাল
হলেও ঘরের সব জানালা বন্ধ।
শরীর ছম ছম করছে শায়লার। মনে হচ্ছে
অন্য কক্ষে কেউ হাঁটছে। কিন্তু শোয়া থেকে উঠে গিয়ে দেখার
মতো সাহস তার নেই। মারুফ ট্রেনে উঠে বৌকে ফোন করে
জানায়। গন্তব্যে পৌঁছেও কল করে। ষ্টেশনের
পৌছতে লাগে পনের মিনিট। বাসা থেকে বের হল প্রায় পৌনে এক
ঘণ্টা হল। এতক্ষণে ট্রেন ছাড়ার কথা। কিন্তু মারুফ
ফোন দেয়নি। শায়লা চিন্তিত মনে কল দিতে গিয়ে দেখল মোবাইল বন্ধ!
কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল। রাত
পোহানো আর ভোরের আলো ফোটার এখনো ঢের বাকি। সেই
পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই।
আরো প্রায় পনের মিনিট পর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল কয়েকবার। শায়লা হতচকিত হয়ে পড়ল। দরজার
লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখলেন মারুফ দরজায় দাঁড়ানো! শায়লা তাড়াতাড়ি দরজা খুললে জিজ্ঞেস
করলেন ফেরত আসলে কেন? মারুফ উত্তর দিলেন ট্রেন অনেক লেট।
মারুফ ঘরে ঢুকে শায়লাকে বলল খুব খিদে পেয়েছে, খাবার কিছু আছে? শায়লা
আশ্চর্য হয়ে বলল, তখনই তো ভাত খেয়ে বের হলা। এত
তাড়াতাড়ি খিদা লাগে কেমনে? শায়লা বলল, ফ্রিজ খুলে দেখো কি আছে। অলস শায়লা ছেলের পাশে গিয়ে শুয়ে রইল। ঘরে কেমন
একটা অস্বস্তিকর ভোটকা গন্ধ ছড়াচ্ছে। কিন্তু
গন্ধটার উৎস বুঝা গেল না। সময় দেখার জন্য শায়লা মোবাইল
স্ক্রিনে চোখ দিল, নেটওয়ার্ক একেবারেই নাই!
ফ্রিজ খুলে মারুফ কি কি যেন খেল। ইতিমধ্যে
শায়লার চোখ বুঝে এল। এর মধ্যে অনতিদূরে মসজিদে ফজরের
আজান শুরু হল। মারুফ শায়লাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলল ট্রেনের সময় হল,
আমি আবার বের হলাম, দরজা বন্ধ করো। শায়লা
শোয়া থেকে অলসভাবে উঠে দরজা বন্ধ করে নিজ কক্ষে এসে আবার শুয়ে পড়ল।
আনুমানিক মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই শায়লার মোবাইল বেজে উঠল। মারুফের ফোন! শায়লা চিন্তিত হল, এ মাত্র বের হল মারুফ। এত তাড়াতাড়ি ফোন দিল কেন? রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে
ঝাঁঝালো কণ্ঠে মারুফ বলল, কি ব্যাপার! সেই থেকে তোমার ফোনে ট্রাই করছি, ফোন
বন্ধ রেখেছ কেন? শায়লা বলল, মানে? তুমি কই? মারুফ জবাব দিল, আমিতো ট্রেন থেকে
চট্টগ্রাম স্টেশনে নামলাম মাত্র। বাসা থেকে
বের হয়ে স্টেশনে পৌছার কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছেড়েছে। তখন থেকেই
তোমাকে ফোনে ট্রাই করছি, কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ পাচ্ছি। মারুফের
কথা শুনে শায়লা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইল। ওদিক থেকে
মারুফ হ্যালো হ্যালো করছে।
শায়লা
ফ্রিজ খুলে দেখল মিষ্টির প্যাকেট পুরাই খালি! অথচ প্রায় দু কেজি মিষ্টি ভর্তি ছিল
প্যাকেটটা। শায়লার মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। ওদিক থেকে
হ্যালো হ্যালো করে নেটওয়ার্ক সমস্যা মনে করে মারুফ কল কেটে দিল। শায়লার মাথায় তখন একটাই চিন্তা নিশিকুটুম্ব-টা তাহলে কে?
অশরীরি কেউ নাকি!
বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:
বই :
জীর্ণপাতা
ধরণ :
গল্পের বই
লেখক :
মুহাম্মদ ফজলুল হক
FB Id :
www.facebook.com/f.hoq83
ই-মেইল
: f.hoq83@gmail.com
মোবাইল
: ০১৭১৫১৬৩৬১৫
প্রকাশক
: মেজর মো: তারেক মাহমুদ সরকার।
স্বত্বাধিকারী,
উদীয়মান লেখক ফোরাম, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মোবাইল
: ০১৭৬৯- ৬০০১১৪.
ISBN -
স্বত্ত্ব
: লেখক
প্রথম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২০১৯
প্রচ্ছদ
: মুহাম্মদ ফজলুল হক।
মুদ্রণ
: পানকৌড়ি প্রিন্টার্স, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স
মিজান
রোড, ফেনী।
মোবাইল
: ০১৮১৭-০৫০৩০৯
Jirnopata (Story Book) by Md Fazlul Hoque, Published by
Muhammad Tareq Sarkar, Owner of Udiyomal Writers Forum, Dhaka, Bangladesh. Cell: 01769- 600114.
E-mail: tareq4002@mail.com.







