Sunday, April 15, 2018

অপেক্ষা-ফাতেমা আহমেদ



বই পরিচিতি:


লেখিকার আটটি গল্প স্থান পেয়েছে বইটিতে। গল্পগু‌লি বৈচিত্রময়। নারীর নারীত্বের মহিমায় লেখা গল্পগু‌লি সুখপাঠ্য। আমা‌দের জীবনের খণ্ডিত চিত্রগু‌লি হল এক এক‌টি গল্প। সেই রূপ খণ্ড চিত্রগু‌লি‌কে লেখিকা অত্যন্ত সযত্নে সুললিত ভাষায় ফ্রেমে আবদ্ধ করেছেন। এক এক‌টি ফ্রেমে র‌য়ে‌ছে একেক ধরনের খণ্ড চিত্র। যা আমা‌দের জীবন নি‌য়ে নতুন ভাবে ভাবনার জগৎ এ নি‌য়ে যাবে। মনে হবে এভাবে জীবন হোচট খেল কেন? এভাবে না হ‌য়ে ওভাবে হ‌তে পারত? পরিশেষে প্রতিটি ফ্রেমের খণ্ড চিত্রগু‌লি‌তে রয়েছে সুগভীর অনুভূতি যা মনকে নাড়া দিবে। অনুভূতিকে সচেতন করবে। বেঁচে থাকার সার্থকতা পে‌তে আমরা জীবন‌কে নি‌য়ে নতুন ভাবে ভাবব। বইটি পড়ায় প্রতিটি সময় হবে সার্থকতায় পূর্ণ।


লেখিকা পরিচিতি:

ফাতেমা আহমেদ একজন গল্প প্রেমী। গল্প লিখতে এবং পড়তে খুব ভালোবাসেন। নিত্য নতুন লেখক/লেখিকার গল্প পড়ে গল্প লেখার চেষ্টা করতে থাকেন। এক সময় ২০১৭ সালে নবম শ্রেনীতে পড়াশোনা কালীন তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের লেখা তুলে ধরেন। বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং নিজের টাইম লাইনে গল্প লিখে পাঠক/পাঠিকার উৎসাহ পেয়ে তিনি নিয়মিত গল্প লেখা শুরু করেন। তিনি চাদপুর জেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাবা মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ। তিনি জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান। সত্য ঘটনা অবলম্বনে, বাস্তবতার চিত্র ফুঁটিয়ে তুলে তিনি গল্পঘর সাজাতে চান।

“উদীয়মান লেখক ফোরাম”এর মাধ্যমে তিনি প্রথম বই প্রকাশের অনুপ্রেরনা পান।

বইটি কেন কিনবেন:


বাজারে লক্ষ বই আছে।
এর মধ্যে এই বইটির বিশেষত্ব কি?
বিশেষত্ব আছে। বইটিতে একজন নারী তার নারীত্বের দৃষ্টি নিয়ে জীবনের বাস্তব ঘটনাগুলো অবলোকন করেছেন। তিনি তা মানুষের সচেতনতায় তুলে ধরেন। এটি ব্যতিক্রমধর্মী অপূর্ব সাহিত্য কর্ম। সাহিত্যের এই ব্যতিক্রমতায় আমরাও বইটির পাঠক হতে পারি। অনুভব করতে পারি

পাঠিকার হৃদয়ের স্পন্দন

বইটি সূচিপত্র:

অপেক্ষা  ৭-১৩
গল্প হলেও সত্যি  ১৪-৩০
নির্দয় ভাগ্য  ৩১-৩৯
নির্মমতা  ৪০-৪৬
স্বামীর সংসার  ৪৭-৫৪
মায়া  ৫৪-৫৮
উড়ে গেলো মন পায়রা গুলো  ৬০-৬৬
শিউলি সকাল  ৬৭-৮০


একটু পড়ে দেখুন:


অপেক্ষা

আসবে সে ফিরে আসবে।
তাকে ফিরে আসতে হবে।
মেঘনা নদীর তীর ধরে আমায় সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে হবে। নৌকায় করে মাঝ নদীতে আমায় নিতে হবে।
নীল চুড়ি,গেঁন্ধা ফুল আমায় দিতেই হবে।
' নূর ' তোমাকে ফিরে আসতেই হবে।
তুমি শূন্যতা আমার ডায়রী জানে, তুমি শূন্যতা মেঘনা নদী জানে, তুমি শূন্যতা ভেঙ্গে যাওয়া ডুবন্ত নৌকা জানে, শুধু তুমি জানো না, জানবে না কোন দিন? জানতে চাইবে না কোন দিন?
তুমিহীনা কত ভালো আছি!!
' নূর ' দেখো দুনিয়া কত আধুনিক হয়েছে, মানুষ কত পরিবর্তন হয়েছে, জানো আমাদের ছোট্টু বিয়ে করেছে, ছোট্টু বাবা হয়েছে, ছোট্টুর ছেলে আমায় নূফু বলে ডাকে, নূফু কেন ডাকে জানো? নূ- নূর,ফু-ফুফি, ছোট্টুর ছেলে ছোটন খুব পাকা হয়েছে জানো তো, খুব দুষ্টু, সারা দিন ছুটাছুটি করে বেড়ায়, একদম পড়তে চায় না, আচ্ছা তুমি বলো পড়াশুনা ছাড়া কি কিছু হবে?
আজও সে কোন উত্তর দিলো না, ডায়রীর অপর পৃষ্ঠায় কলম রেখে দু'চোখ বন্ধ করলাম।
মনে হয় সেদিনের কথা- নূর আর আমি হাত ধরে ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি, পিছন থেকে নূর যতই ' বউ বউ ' বলে ডাকতো আমি ততই জোরে দৌড়াতে থাকতাম। মনে হয় যেনো ক্ষেতের মাঝ খান দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা বড় হয়ে গেলাম, সেই তেঁতুল তলা, সেই বট তলা, সেই মাঠ আদৌ খাঁ খাঁ করছে কিন্তু সে নেই, এত অভিমান! এত অভিমান করে থাকতে হবে আমার উপর!!
চোখটা খুলে বাহিরে তাকালাম, ছোটন ছুটাছুটি করছে, আরে সব কিছু ঝাপসা দেখছি কেন!! ওহ ভুলেই গিয়েছিলাম চোখের কোণে পানি জমেছে।
আঁচল দিয়ে পানি মুছে লাঠির উপর ভর করে বাহিরে বের হলাম, হাঁটতে হাঁটতে তেঁতুল তলায় গিয়ে দাঁড়ালাম, কি সুন্দর বিকেল! সূর্যটা মেনে যাচ্ছে,সূর্যের আলোয় নদীর পানি কি চমৎকার ঝলমল করছে, নদীর পানির ধিক চেয়ে আছি, নূর কতই না দুষ্টু ছিলো, তেঁতুল তলায় নদীর পাড়ে যখন এসে বসতাম তখন একের পর এক ঢিল ছুড়ে পানিতে ছোট ছোট ঢেউ তুলে দিতো আর আমায় বলতো বউ দেখ কি সুন্দর প্রেমের ঢেউ খেলে যাচ্ছে।
' হা হা হা ' কতই না দুষ্ট ছিলো।
হঠাৎ পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো-

- বুড়িমা কি হয়েছে আপনার! একা একা হাসছেন যে!
- কিছু না বাবা...
রহিমের কথায় মুহূর্ত গুলো পানির সাথে মিশে গেলো, তেতুলতলা থেকে উঠে বাড়ি চলে আসলাম, বাড়িতে ঢুকতেই মাগরিবের আযান শুনতে পেলাম, ওযু করে ভাবির রুমে নামাজ আদায় করলাম, ভাবি আমায় জিজ্ঞেস করলো
- বুবু আপনাকে মুড়ি মেখে দিবো?
- না সই, এখন খাবো না, ছোট্টুকে দে, ছোট্ট মুড়ি মাখা খুব পছন্দ করে, আমি মুনাজাত শেষ করে একটু শুবো, হাঁটু ব্যথা যেনো দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে ।
- বুবু আপনি বিশ্রাম নেন, আমি হাত পায়ে গরম তেল ঢলে দিচ্ছি।
ছোট্টুর বউটা খুব যত্ন করে আমার, কখনো অবহেলা করেনি আমায়, বয়স তো কম হলো না তবুও আমার উপর যেনো তার বিরক্ত আসে না।
খাঁখাঁ দুপুর, নূরের সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়েছিলাম, সে কি কাণ্ড! কোথায় আমি কাঁদবো তা না নূর কেঁদে কেঁদে মহল্লার মানুষ এক করলো, হাঁটুতে বড্ড চোট পেয়েছিলাম, কবিরাজ কাকা তেলপট্টি দিয়ে হাঁটু ব্যথা কমিয়ে দিয়েছিলো, তবুও মাঝে মাঝে হাঁটুতে ব্যথা হতো।
গ্রামের প্রত্যেকের মুখে একটায় কথা ছিলো ' বাল্যকাল পার হলেই নূরের সঙ্গে রাফিশার শুভ কাজ সেরে ফেলবো,দুজন দুজন কে চোখে হাঁড়ায়' ইসস সে কি লজ্জা! কথাটা শুনেই দৌড়ে পালিয়ে যেতাম, নূর পিছন পিছন


বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:

গ্রন্থস্বত্ব 
: লেখক

প্রকাশকাল            
:  ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ১৫ এপ্রিল ২০১৮                     
:  ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভাসন-১:  ১৫ এপ্রিল ২০১৮ (৬ কপি)                       
:  প্রথম প্রেস র্ভাসন প্রক্রিয়াধীন

মুদ্রণে
:  উদীয়মান লেখক ফোরাম

বাঁধাইয়ে
:  ইসমাইল,নীলখেত

মূল্য
:  পিডিএফ র্ভাসন ৬০ টাকা বিদেশে দুই ডলার।
:  ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভার্সন ১৮০ টাকা বিদেশে চার ডলার।
:  প্রেস র্ভাসন ১৪০ টাকা বিদেশে তিন ডলার।

আইএসবিএন : 
আবেদন প্রক্রিয়াধীন




1 comment:

  1. ধন্যবাদ এমন সুন্দর উদ্যেগ এর জন্য

    ReplyDelete