বই পরিচিতি:
লেখক পরিচিতি:
বলের বদলে গ্রেনেড একজন
কিশোরকে কেন্দ্র করে রচিত যে পড়াশুনার পাশাপাশি দারুণ ক্রিকেট খেলে। স্বপ্ন দেখে
বড় কিছু হবার...কিন্তু এরই মধ্যে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সময়ের প্রয়োজনে সে
বলের বদলে হাতে গ্রেনেড তুলে নেয়।
সত্যি কথা বলতে এটি আসলে গল্প/উপন্যাস নয়, অনেকখানিই
সত্য ঘটনার উপর নির্ভর করে লেখা। বছর তিনেক আগে আমি ঠিক করেছিলাম খুলনায় যতজন
জীবিত মুক্তিযোদ্ধা আছেন সবার সাক্ষাৎকার নেবো, তাঁদের কাছ
থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনব। এই উদ্দেশ্যে প্রথমে যার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তাঁর
নাম জনাব এস এম আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর বর্তমানে
তিনি অবসরে আছেন।
তাঁর সাক্ষাৎকার নেবার পরই
ব্যক্তিগত কারণে আমাকে খুলনা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যেতে হয়। ফলে, বাকি আর
কোন মুক্তিযোদ্ধার সাথে দেখা করা সম্ভব হয় নি। সে সময় সিদ্ধান্ত নিই জনাব আনোয়ার
হোসেনের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে আমি একটি গল্প/উপন্যাস লিখব (চেষ্টা করব আর
কী!)। মূল চরিত্র ‘অনিক’ আসলে তাঁর উপর নির্ভর করেই লেখা। এটি লেখার সময় আমি যতটা
সম্ভব ঐতিহাসিক সত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। এজন্য জনাব আনোয়ারের হোসেনের বর্ণনার
পাশাপাশি আমি সাহায্য নিয়েছি মোল্লা আমীর হোসেন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধে খুলনা’,
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এবং বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধ
ভিত্তিক ওয়েবসাইটের।
মুক্তিযুদ্ধ এবং ক্রিকেট
দুটোই আমার অত্যন্ত পছন্দের বিষয়বস্তু। আর এভাবেই ‘বলের বদলে গ্রেনেড’ এর জন্ম।
জুনায়েদ
কবীর ১৯৮২ সালের ১১ মে জন্মগ্রহণ করেছেন। গ্রামের বাড়ি উত্তরাঞ্চল
হলেও সরকারি চাকুরিজীবী বাবার কারণে শৈশব-কৈশোরের প্রায় পুরোটাই কেটেছে
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মফস্বল শহরে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি
পাশ করার পর অর্থনীতি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এরপর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ শেষ করে পর্যায়ক্রমে একাধিক বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং খেলাধুলা সবচেয়ে
পছন্দের বিষয়। বলের বদলে গ্রেনেড বই আকারে প্রকাশের
মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য তিনি উদীয়মান লেখক
ফোরাম-এর কাছে চির কৃতজ্ঞ!
বইটি কেন কিনবেন:
বাংলাদেশে আমাদের নিজেদের রচিত
কিশোর সাহিত্য তেমন নেই বললেই চলে। গুটিকতক যা রয়েছে তাদের মধ্যে কোনটিই আবার
খেলাধুলা সংক্রান্ত নয়। অথচ, খেলাধুলা বিষয়ক
সাহিত্য সারাবিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধারা। বলের বদলে গ্রেনেড শুধু
মুক্তিযুদ্ধ নয় বরং ক্রিকেটকেও উপজীব্য করে লেখা। ফলে, আশা করা যায় বইটি বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গণে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত
হবে। এই বইটি কিশোর মনে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ক্রিকেট সম্পর্কেও
আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। সবচেয়ে বড় কথা, এই উদ্যোগটি সফল হলে অর্থাৎ পাঠক জনপ্রিয়তা পেলে বাংলা ভাষায় খেলাধুলা
সংক্রান্ত সাহিত্য রচনায় স্থানীয় লেখক-সাহিত্যিকগণ আরও উৎসাহী হয়ে উঠবেন বলে আমি
আশা করি।
এক
জানুয়ারি, ১৯৭১।
কথায় আছে- ‘মক্কার লোক
হজ্জ্ব পায় না’!!
অনিকের জন্য বাগধারাটি
শতভাগ প্রযোজ্য! ওর বাসা খুলনা পুলিশ লাইনের ঠিক পাশের গলিতেই। বাসা থেকে সার্কিট
হাউজের মাঠে যেতে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে। অথচ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই
বিকালের প্র্যাকটিসে ও সবার শেষে উপস্থিত হচ্ছে! কোচ সুনীলদা ওকে খুব স্নেহ করেন
বলে তেমন কিছু বলেন না, শুধুমাত্র ওয়ার্ম আপের সময় দুই চক্কর বেশি দৌড়াতে পাঠান।
ঘড়িতে এখন
বিকাল চারটা পঁচিশ বাজে, অর্থাৎ আজকেও দশ মিনিট দেরি করে এসেছে অনিক। অন্যদিনের
মতন কোচের নির্দেশের অপেক্ষা না করে নিজেই চক্কর দেয়া শুরু করল। অন্যরা পাঁচ চক্কর
শেষ করে ফেললেও অনিক আরও দুই চক্কর দিয়ে কোচের সামনে উপস্থিত হল। জানুয়ারির
মাঝামাঝি বলে এখনো বেশ ঠাণ্ডা রয়েছে, এতক্ষণ তাই সোয়েটার পড়ে দৌড়াচ্ছিল। সাত
চক্করের পরিশ্রমে শরীর ঘেমে যাওয়ায় সোয়েটার খুলে কোমরে বেঁধে নিলো ও।
-অনিক, আজকে
তুই ব্যাটিং পাবি না। শুধু বোলিং এবং ফিল্ডিং করবি...
-সুনীলদা...
-আমি কোন কথা
শুনতে চাই না! যা বলেছি তাই কর...
মাথা নিচু করে
ধীরে ধীরে মিড অনে গিয়ে দাঁড়াল। শোভন এবং ফয়সাল ওর দিকে তাকিয়ে গা জ্বালানো হাসি
দিয়ে প্যাড পড়া শুরু করল।
প্রথমে শারেক
এবং সুমন বোলিং শুরু করল। ওরা দলের স্ট্রাইক বোলার। দুজনের বয়স ১৭-১৮ হলেও বেশ ভাল
গতি আছে। এছাড়াও আরও তিনজন পেসার আছেন- কামাল ভাই, দীপ্তদা এবং টুটুল ভাই। ওদের
বয়স আরেকটু বেশি-তিনজনই বি.এল কলেজে ডিগ্রী পড়ে। এই তিন জন এবং দলের ক্যাপ্টেন
শাহিন ভাই ছাড়া বাকি সবাই ক্লাস নাইন থেকে শুরু করে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের মধ্যে।
অনিক সিটি কলেজে পড়ে, ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। বছরের
মাঝামাঝি কোন এক সময়ে ফাইনাল পরীক্ষা হবার কথা রয়েছে। ছাত্র হিসেবে বেশ ভাল। খুলনা জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক দিয়েছিল, দুইটি লেটার সহ
স্টার মার্কস পেয়েছিল।
ক্লাস বা
পড়াশুনায় অনিক অনেক নিয়মিত এবং আন্তরিক। অবশ্য দেশের পরিস্থিতি যেরকম উত্তপ্ত হয়ে
রয়েছে, মাঝে মাঝেই ক্লাস বাতিল হয়ে যাচ্ছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া জেনারেল ইলেকশনের কারণেও অনেক দিন ক্লাস বন্ধ ছিল।
অবশ্য, ইলেকশনের আগেও সকল স্তরের রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীও
ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছিল। অনিক এবং ওদের বন্ধুরা ক্লাস বাদ দিয়ে খুলনা জেলার প্রায়
প্রতিটি থানা-মহকুমায় গিয়েছিল। অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস জুড়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা
নিয়ে কাজ করেছিল। ৭ ডিসেম্বরের ইলেকশনে আওয়ামী লীগ জেতার পর পুরো দেশজুড়ে খুশির
আমেজ ছড়িয়ে পড়ল। খুলনার মতন শান্ত শহরেও সে আমেজ ভীষণভাবে বোঝা গিয়েছিল। বড়দের
পাশাপাশি অনিকরাও ঐতিহাসিক বিজয়কে উৎযাপন করেছিল ধুমধামের সাথে। সবাই বলাবলি করছিল এবার বোধহয় আমাদের কষ্টের দিন ফুরোল!
কিন্তু গত
একমাস ধরে পিপলস পার্টির অপপ্রচার এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের গড়িমসি দেখে আবার
সবার মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে! সত্যিই কি ওরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে?
যাই হোক,
সুনীলদাকে কয়েকবার বলতে গিয়েও ওর সমস্যার কথা বলতে পারে নি অনিক। বড় চাচার বাড়িতে
থাকে বলে অনেক কাজই নিজের ইচ্ছায় করতে পারে না। ওর বাবা-মা থাকেন গোপালগঞ্জে।
পড়াশুনা যেন ভাল হয় এজন্য অনিককে খুলনায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। বড় চাচা পুলিশে চাকরী
করেন, খুবই রাশভারী লোক। নিজের কোন বাচ্চা নেই, অনিককে নিজের ছেলের মতন দেখেন। মাস
খানেক আগে বলে দিয়েছেন কলেজে যেহেতু তেমন পড়াশুনা হচ্ছে না, ও যেন বাড়িতে পড়াশুনায়
আরও জোর দেয়। এজন্যই ইদানীং দুপুরের
খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হলেও পড়তে বসতে হয়। ফলে প্র্যাকটিসে আসতেও দেরি
হয়।
বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:
গ্রন্থস্বত্ব
: লেখক
: লেখক
প্রকাশকাল
: ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ৩১ মে ২০১৮
: ই-বুক পিডিএফ র্ভাসন: ৩১ মে ২০১৮
: ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভাসন-১: ৩১ মে ২০১৮ (৫ কপি)
: প্রথম প্রেস র্ভাসন প্রক্রিয়াধীন
মুদ্রণে
: উদীয়মান লেখক ফোরাম
বাঁধাইয়ে
: ইসমাইল,নীলখেত
মূল্য
: পিডিএফ র্ভাসন ১০০ টাকা বিদেশে দুই ডলার।
: ডিজিটাল প্রিন্ট র্ভার্সন ২৬৫ টাকা বিদেশে চার ডলার।
: প্রেস র্ভাসন ২১০ টাকা বিদেশে তিন ডলার।
আইএসবিএন :
আবেদন প্রক্রিয়াধীন
আইএসবিএন :
আবেদন প্রক্রিয়াধীন


No comments:
Post a Comment