Friday, May 25, 2018

জীর্ণপাতা-মুহাম্মদ ফজলুল হক

১ম ডিজিটাল ভার্সন





মূখবন্ধ:

মানব জীবনটা হচ্ছে পত্রপল্লবে সুশোভিত বৃক্ষের মতোএকেকটা লিখিত গল্প একেকটা ঝরাপাতার মতোপ্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কম বেশি অসংখ্য গল্প আছেএকেকটা অখ্যাত মানুষের সেসব গল্প অন্য মানুষ হয়তোবা জানে, হয়তোবা জানে নাবিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন “জগতের শত শত অসমাপ্ত কথা যত// অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল// অকালের জীবনগুলো, অখ্যাত কীর্তির ধুলা// কত ভাব, কত ভয় ভুল তেমনই কিছু জীবনের গল্প নিয়ে আমার প্রথম গল্পের বই “জীর্ণপাতা”১৯৯৫ সালে যখন নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকে একটু একটু লেখালেখি করিএ বইয়ের গল্পগুলোর কিয়দংশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, আর কিছু ছিল অপ্রকাশিত

মানুষ দিন দিন বেশি যান্ত্রিক, বেশি ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছেবড় আকারের লেখা কম সংখ্যক লোকেই পড়তে চায়ছোট লেখা বেশি সংখ্যক লোকে পড়তে আগ্রহী হয়সে জন্য আমি স্বল্পদৈর্ঘ্যের গল্প লেখার চেষ্টা করিএর কিছু ছোটগল্প আর কিছু অনুগল্পের পর্যায়ে পড়েশুধু অনুগল্প নিয়ে ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র একটি গল্পের বই প্রকাশে আগ্রহীলেখক হিসেবে আমার হাত একেবারেই আনকোরাএকটি কাহিনী বা প্লটকে গল্পের ব্যাকরণে বা সাহিত্যমানে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কিছু নান্দনিক ও শিল্পশর্ত পূরণ করতে হয়আমি গল্প নামে যা লেখি, সেটা আদতেই গল্প হয় কি না, কিংবা সাহিত্যের ব্যাকরণিক দিকটি ছুঁয়ে যায় কি না, সেটা জানি নানিরন্তর মনের ভাবনা থেকে লিখি, পাঠককে ভাবানোর উপকরণ রাখার চেষ্টা করিআমার গল্পগুলি গল্প হোক কি না হোক, একান্ত শখের বশেই লেখা এবং বই প্রকাশ করাএ কয়টি গল্পের মধ্য থেকে দু একটা গল্পও যদি কোন পাঠকের ভাবায়, চিন্তার খোরাক দেয়, নূন্যতম ভাল লাগে, তবে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে ধরে নেব 

মুহাম্মদ ফজলুল হক
ফেনী


লেখক পরিচিতি:


      মুহাম্মদ ফজলুল হক ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার আমজাদ হাট ইউনিয়ন অন্তর্গত উত্তর তারাকুচা গ্রামে আব্দুল কাদের ও করফুলের নেছার ঔরসে ১৯৮৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। সাত ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সহধর্মীনি জাকিয়া সুলতানা রুমা একটি কলেজে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক (এম.পি.ও ভূক্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন৷ উনাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছেআহনাফ তাজওয়ার লাবীববয়স সাড়ে তিন বছর৷
      বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ফেনী জেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে দাখিল (এসএসসি) ও আলিম (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। ফেনী সরকারী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও ঢাকা কলেজ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রী এবং বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পলচট্টগ্রাম থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। তাছাড়াও ইংরেজি ভাষা এবং কম্পিউটার বিষয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত ডিপ্লোমা করেন। ভবিষ্যতে তিনি উচ্চতর গবেষণা করতে আগ্রহী।
     তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কলেজে ছাত্রাবাসসীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ছাত্র ছাত্রীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য ২০০৩ সালে ফেনী সরকারী কলেজে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র-ঐক্যের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন লেখক। উক্ত আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার ফেনী সরকারী কলেজের উন্মুক্ত সীমানায় প্রাচীর নির্মাণ ও বৃহৎ আকারে ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে বাধ্য হন।
পেশাগত জীবনে লেখক ফেনী জেলার খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান শাহীন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক, মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, আদাবর, শ্যামলী, ঢাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক, ফেনী কলেজিয়েট স্কুল এর অধ্যক্ষ এবং বীকন মডেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চরলক্ষ্মীগঞ্জ নাজেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, কুঠিরহাট, সোনাগাজী, ফেনীতে স্নাতক পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক (এম.পি.ও ভুক্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
লেখক ফেনী শহরে রিডার্স ফোরাম নামে একটি ষ্টাডি সার্কেল পরিচালনা করে আসছেন৷ ত্রৈমাসিক হুইশেল নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন৷ তিনি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল এর ফেনী শাখার একজন সদস্য। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেছেন৷ ফেনী সরকারী কলেজ এক্স স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এলামনাই এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা অর্থসম্পাদক। বই পড়া আর ঘুরে বেড়ানো লেখকের অন্যতম শখ। দেশের অর্ধেকের বেশি জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা ভ্রমণ করেছেন তিনি। 

লেখকের প্রকাশিতব্য বইসমূহঃ
১) অনুগল্পের বই "অল্প কথার গল্প"৷
২) প্রবন্ধ সংকলন "বাৎচিৎ"৷
৩) ভ্রমণ কাহিনী "তেপান্তরের চুপকথা"৷
৪) কবিতার বই "অস্ফুট আস্ফালন"৷

বইটি সূচিপত্র:

০১) ছোট্ট বান্ধবী
০২) ফনিমনসার জোসনারাত
০৩) কালো মানিক
০৪) ফ্যাসাদ
০৫) ঝরা বকুল
০৬) রাতের অতিথি
০৭) তিন বন্ধুর বিদেশ গমন
০৮) বিরহ বিধূর হিয়া
০৯) রক্তমাখা কিশোরকন্ঠ
১০) সাপের মানিক
১১) উপস্থিত বুদ্ধি
১২) এক পলক
১৩) ভয়ংকর এক রাত
১৪) দ্বিগুন বৃদ্ধি
১৫) নিশিকুটুম্ব

একটু পড়ে দেখুন:


নিশিকুটুম্ব

বিশেষ কাজে শেষ রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন মারুফস্ত্রী শায়লা আর ছোট বাচ্চাকে বাসায় রেখেই তিনি বের হলেনবৌ খুবই ভীতুর ডিম স্বামী বের হওয়ার পর বাচ্চাকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইলেনএর আগে বাসার সব রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলেনগরম কাল হলেও ঘরের সব জানালা বন্ধ

শরীর ছম ছম করছে শায়লারমনে হচ্ছে অন্য কক্ষে কেউ হাঁটছেকিন্তু শোয়া থেকে উঠে গিয়ে দেখার মতো সাহস তার নেইমারুফ ট্রেনে উঠে বৌকে ফোন করে জানায়গন্তব্যে পৌঁছেও কল করেষ্টেশনের পৌছতে লাগে পনের মিনিটবাসা থেকে বের হল প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা হলএতক্ষণে ট্রেন ছাড়ার কথাকিন্তু মারুফ ফোন দেয়নিশায়লা চিন্তিত মনে কল দিতে গিয়ে দেখল মোবাইল বন্ধ! কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলরাত পোহানো আর ভোরের আলো ফোটার এখনো ঢের বাকিসেই পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই

আরো প্রায় পনের মিনিট পর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল কয়েকবারশায়লা হতচকিত হয়ে পড়লদরজার লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখলেন মারুফ দরজায় দাঁড়ানো! শায়লা তাড়াতাড়ি দরজা খুললে জিজ্ঞেস করলেন ফেরত আসলে কেন? মারুফ উত্তর দিলেন ট্রেন অনেক লেট

মারুফ ঘরে ঢুকে শায়লাকে বলল খুব খিদে পেয়েছে, খাবার কিছু আছে? শায়লা আশ্চর্য হয়ে বলল, তখনই তো ভাত খেয়ে বের হলাএত তাড়াতাড়ি খিদা লাগে কেমনে? শায়লা বলল, ফ্রিজ খুলে দেখো কি আছেঅলস শায়লা ছেলের পাশে গিয়ে শুয়ে রইলঘরে কেমন একটা অস্বস্তিকর ভোটকা গন্ধ ছড়াচ্ছেকিন্তু গন্ধটার উৎস বুঝা গেল নাসময় দেখার জন্য শায়লা মোবাইল স্ক্রিনে চোখ দিল, নেটওয়ার্ক একেবারেই নাই!

ফ্রিজ খুলে মারুফ কি কি যেন খেলইতিমধ্যে শায়লার চোখ বুঝে এলএর মধ্যে অনতিদূরে মসজিদে ফজরের আজান শুরু হলমারুফ শায়লাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলল ট্রেনের সময় হল, আমি আবার বের হলাম, দরজা বন্ধ করোশায়লা শোয়া থেকে অলসভাবে উঠে দরজা বন্ধ করে নিজ কক্ষে এসে আবার শুয়ে পড়ল

আনুমানিক মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই শায়লার মোবাইল বেজে উঠলমারুফের ফোন! শায়লা চিন্তিত হল, এ মাত্র বের হল মারুফএত তাড়াতাড়ি ফোন দিল কেন? রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে ঝাঁঝালো কণ্ঠে মারুফ বলল, কি ব্যাপার! সেই থেকে তোমার ফোনে ট্রাই করছি, ফোন বন্ধ রেখেছ কেন? শায়লা বলল, মানে? তুমি কই? মারুফ জবাব দিল, আমিতো ট্রেন থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে নামলাম মাত্রবাসা থেকে বের হয়ে স্টেশনে পৌছার কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছেড়েছেতখন থেকেই তোমাকে ফোনে ট্রাই করছি, কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ পাচ্ছিমারুফের কথা শুনে শায়লা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলওদিক থেকে মারুফ হ্যালো হ্যালো করছে

শায়লা ফ্রিজ খুলে দেখল মিষ্টির প্যাকেট পুরাই খালি! অথচ প্রায় দু কেজি মিষ্টি ভর্তি ছিল প্যাকেটটাশায়লার মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছেওদিক থেকে হ্যালো হ্যালো করে নেটওয়ার্ক সমস্যা মনে করে মারুফ কল কেটে দিলশায়লার মাথায় তখন একটাই চিন্তা নিশিকুটুম্ব-টা তাহলে কে? অশরীরি কেউ নাকি!



বই সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:

বই : জীর্ণপাতা
ধরণ : গল্পের বই
লেখক : মুহাম্মদ ফজলুল হক
FB Id : www.facebook.com/f.hoq83
ই-মেইল : f.hoq83@gmail.com
মোবাইল : ০১৭১৫১৬৩৬১৫

প্রকাশক : মেজর মো: তারেক মাহমুদ সরকার।
স্বত্বাধিকারী, উদীয়মান লেখক ফোরাম, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মোবাইল : ০১৭৬৯- ৬০০১১৪.
ISBN -

স্বত্ত্ব : লেখক
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২০১৯

প্রচ্ছদ : মুহাম্মদ ফজলুল হক।
মুদ্রণ : পানকৌড়ি প্রিন্টার্স, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স
মিজান রোড, ফেনী।
মোবাইল : ০১৮১৭-০৫০৩০৯

Jirnopata (Story Book) by Md Fazlul Hoque, Published by Muhammad Tareq Sarkar, Owner of Udiyomal Writers Forum, Dhaka, Bangladesh. Cell: 01769- 600114. E-mail: tareq4002@mail.com.

No comments:

Post a Comment